একটি অসাধারণ শিক্ষানীয় গল্প

 একটি অসাধারণ শিক্ষানীয় গল্প: গল্পের কেন্দ্রবিন্দু হলো একটি গরিব ছেলে, যার নাম স্যাম কেইলি। তার জীবনযাত্রা খুবই কষ্টদায়ক ছিল। একদিন, যখন সে রাস্তায় হাঁটছিল, তখন এক অসাধারণ পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়। স্যাম এ সময় তার লেখাপড়ার খরচ জোগাড় করার জন্য বিভিন্ন বাড়িতে গিয়ে বিভিন্ন সামগ্রী বিক্রি করছিল। সব কিছু মেরামত করার চেষ্টা সত্ত্বেও তার গায়ে ছিলো একটি পুরানো এবং জীর্ণ পোষাক, যা দিয়ে তার গরিবী এবং দুর্দশার চিত্র স্পষ্ট হয়ে উঠছিল। অতীব ক্ষুধার্ত হওয়ার কারণে, স্যাম মনস্থির করেছিল যে পরবর্তী বাড়িতে গিয়ে খাবারের জন্য সাহায্য চাইবে। কিন্তু যখন সে একটি বাড়ির সামনে দাঁড়াল, তখন সেখান থেকে বের হলেন একজন সুন্দরী মহিলা। মহিলার সৌন্দর্য এবং মর্যাদা দেখে স্যাম কিছুটা ভীত হয়ে গেল। সে খাবারের কথা বলতে সাহস পেল না, বরং একটি গ্লাস জল চাইল। মহিলাটি স্যাম এর কষ্টের অবস্থ দৃষ্টিতে দেখে বুঝতে পারলেন যে সে শুধু পানির জন্য নয়, বরং কিছু খাবার চাইছিল। তিনি তাকে একটি বড় গ্লাস দুধ এনে দিলেন।


 স্যাম দুধটি ধীরে ধীরে পান করতে করতে বলল, "আপনাকে আমি কত টাকা দেব?" মহিলাটি হাসিমুখে বললেন, "তোমাকে কিছুই দিতে হবে না।" স্যাম, যার অভ্যস্ততা ছিলো অপ্রাপ্তি এবং করুণার দান থেকে দূরে থাকা, মন থেকে মহিলাকে ধন্যবাদ জানাল। তার মা তাকে শিক্ষা দিয়েছিলেন, "কখনো করুণার দান গ্রহণ করা উচিত নয়।" স্যামের জন্য সেটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পাঠ ছিল যা সে জীবনে অনুসরণ করতো।বছরগুলো চলে গেল এবং স্যাম বড় হয়ে একজন ডাক্তার হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভ করলো। তার কঠোর পরিশ্রম এবং প্রতিজ্ঞা তাকে তার স্বপ্নের পেশায় পৌঁছাতে সাহায্য করেছে। কিন্তু একদিন, স্যামের জীবনের ঘটনা একটি মোড় নেয়, যখন সেই মহিলাটি মারাত্মক অসুস্থ হয়ে পড়েন। স্থানীয় ডাক্তাররা চেষ্টা করেও তাকে সুস্থ করতে ব্যর্থ হন। অদূর ভবিষ্যতে, তাকে পাঠানো হলো একটি বড় শহরের বিশিষ্ট হাসপাতালে, যেখানে কঠিন এবং বিরল রোগের চিকিৎসা করা হয়। ডা: স্যাম কেইলিকে ওই মহিলার চিকিৎসার দায়িত্ব দেওয়া হলো। যখন স্যাম শুনলেন যে মহিলাটি কোথা থেকে এসেছেন, তখন তার মনে হয়েছিল যেন অতীতের সেই হতাশাগ্রস্ত দিনগুলি ফিরে এসেছে। দ্রুত তিনি মহিলার রুমে ঢুকে পড়লেন এবং প্রথম দেখাতেই তাকে চিনতে পারলেন। ওই মুহূর্তে, স্যামের মনে শক্ত দৃঢ়তা জন্ম নিল। তিনি প্রতিজ্ঞা করলেন, যেভাবেই হোক, ওই মহিলাকে বাঁচাতে হবে।ডা: স্যাম অনেক চেষ্টার পর অবশেষে মহিলাকে সুস্থ করার ব্যবস্থা করলেন। তার ধৈর্য ও চেষ্টা অবশেষে সফল হলো। হাসপাতালের একাউন্টেন্টকে তিনি নির্দেশ দিলেন, বিলটি প্রস্তুত করুন এবং মহিলার কাছে পাঠান, কারণ স্যার নিশ্চিত ছিলেন, এটা তার কর্তব্য। বিলের কোণে তিনি কী যেন লিখে রেখেছিলেন, যা মহিলার কাছে পাঠানোর আগে হৃদয়ে স্থাপন করেছিলেন। শেষে, মহিলাটি বিলটি খুলতে সাহস পেলেন। কিন্তু যখন তিনি পড়তে লাগলেন, তখন দেখলেন "আপনার চিকিৎসার খরচ হলো পুরো এক গ্লাস দুধ।" এবং বিলের নিচে সাইন করা ছিলো ডা: স্যাম কেইলির নাম। মহিলাটি স্তম্ভিত হয়ে গেলেন, তার অশ্রু বেয়ে পড়ল এবং মনে মনে ভাবছেন যে এক সময় তিনি ছিলেন একজন ক্ষুধার্ত ছেলে। গল্পটির উদ্দেশ্য হলো, কখনও যা আপনি দান করেন সেটি ফিরে আসতে পারে। মানবপ্রেমের কথা এবং সাহায্যের গুরুত্ব বোঝাতে এই ঘটনা আমাদের শিক্ষা দেয়। প্রকৃতপক্ষে, আমাদের জীবনে সেবা এবং সহযোগিতার অল্প অঙ্গীকার, আমাদের জন্য বড় কিছু এনে দিতে পারে যা আমরা কখনো ভাবতে পারিনি। স্যাম কেবল একজন ডাক্তার হিসেবেই নয়, বরং একজন মানুষের সাহায্যে তার সেবা দিয়ে, মানবতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিলেন।

Comments

Top Read

পরশমণি ফাউন্ডেশন সম্পর্কে || About Parashmani Foundation.

শিশু কিশোর ক্রীড়া উৎসব || Children and youth sports festival

ভবঘুরেদের কম্বল বিতরন। যতটা সম্ভব ওনাদের সঙ্গে থাকুন || Distribution of blankets to vagabonds || Be with them as much as possible.